মার্কিন প্রস্তাবে ইরানের জবাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বললেন ট্রাম্প

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১১ মে ২০২৬ ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ   |   ৪৮ বার পঠিত
মার্কিন প্রস্তাবে ইরানের জবাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বললেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নতুন শান্তি প্রস্তাবের জবাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইরান। তবে তেহরানের সেই জবাবকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানের প্রস্তাবকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও। আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম।

 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকদিন আগে সংঘাত নিরসনে নতুন একটি প্রস্তাব দেয় ওয়াশিংটন। এর জবাবে ইরান সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের ওপর গুরুত্ব দেয়। বিশেষ করে লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টি তুলে ধরে তেহরান।

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে দেশটি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের সার্বভৌম অধিকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে তারা।

 

দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিমের তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে হামলা না করার নিশ্চয়তা, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং তেল বিক্রির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ বাতিলের দাবি জানিয়েছে।

 

তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প ইরানের জবাব প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি লেখেন, “আমার এটা পছন্দ হয়নি। পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।” যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

 

মার্কিন প্রস্তাবে প্রথমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে পরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিতর্কিত ইস্যুতে আলোচনা শুরুর কথা ছিল।

 

এদিকে আলোচনা থমকে যাওয়ার খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বেড়ে যায়। প্রাথমিক লেনদেনেই ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৩ ডলার বৃদ্ধি পায়। এতে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।

 

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান যুদ্ধ মার্কিন জনগণের মধ্যেও খুব একটা জনপ্রিয় নয়। কারণ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে ভোক্তাদের চাপ বাড়ছে। সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্যও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।

 

 

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশিত সমর্থন পায়নি। ন্যাটোভুক্ত মিত্র দেশগুলো পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি ও আন্তর্জাতিক অনুমোদন ছাড়া হরমুজ প্রণালি রক্ষায় যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে।

 

এদিকে আগামী বুধবার ট্রাম্পের বেইজিং সফরের কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ইরান সংকট ও বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হবে।