বেঁচে থাকলে বিজেপিকে সরাবই

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৩ জুন ২০২৬ ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ   |   ৭১ বার পঠিত
বেঁচে থাকলে বিজেপিকে সরাবই

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-তৃণমূল রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে এবার সরাসরি দিল্লিকে নিশানা করলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার ওয়াই চ্যানেলে আয়োজিত এক ধর্না কর্মসূচি থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, জীবিত থাকা পর্যন্ত বিজেপিকে হটানোর লড়াই থেকে আমাকে কেউ রুখতে পারবে না।

 

মঙ্গলবার বিকেলে ওই ধর্নামঞ্চে বক্তব্য দিতে গিয়ে মমতা অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলকে কোণঠাসা করতে পরিকল্পিত নীল নকশা তৈরি করেছে দিল্লির বিজেপি সরকার। দলের বিধায়ক, কাউন্সিলর ও কর্মীদের ক্রমাগত ভয়ভীতি দেখিয়ে দলবদলের চাপ দেওয়া হচ্ছে।

 

তৃণমূল নেত্রীর দাবি, তাঁদের গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে, এমনকি মাইক ব্যবহারের অনুমতি পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। তবে কোনো বাধাই তাঁর পথ আটকাতে পারবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।

 

বক্তব্যে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গও টানেন মমতা। সোনারপুরে আক্রান্ত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে অভিষেক হামলার শিকার হন উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাথায় হেলমেট না থাকলে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত।

 

এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা অভিযোগ করেন, আহত কর্মীর চিকিৎসায় অবহেলা করা হয়েছিল এবং এর পেছনে প্রশাসনিক চাপ ছিল।

 

রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে সভা করার অনুমতি না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁদের সেখানে বসতে দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে পুলিশের অনুমতিতে ওয়াই চ্যানেলে সীমিত সময়ের জন্য এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

 

ধর্নামঞ্চে আসা সাধারণ মানুষকে যেন হেনস্থা না করা হয়, সেই বিষয়ে পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান মমতা। তবে এই পরিস্থিতির জন্য পুলিশকে সরাসরি দায়ী না করে তিনি বলেন, তারা কেবল ওপর মহলের নির্দেশ পালন করছে।

 

কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলোর অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, বিরোধীদের দমাতে এজেন্সিকে হাতিয়ার করা হয়েছে। দেশের গণতন্ত্রের ওপর এভাবে বুলডোজার চালিয়ে সবাইকে ভয়ের মুখে রাখার চেষ্টা চলছে।

 

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ দাবি করেন মমতা। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্তরা কী ভূমিকা পালন করছেন, তা খতিয়ে দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

 

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে কালীঘাটের বাসভবন থেকে বের হয়ে প্রথমে বি. আর. আম্বেদকরের মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে ওয়াই চ্যানেলের ধর্নামঞ্চে যোগ দেন।

 

ভোট-পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এটিই ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম বড় কোনো রাজপথের কর্মসূচি। সম্প্রতি দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে একাধিক বিধায়কের অনুপস্থিতি ও সাংগঠনিক নানামুখী বিতর্কের মাঝে এই কর্মসূচি তৃণমূলের জন্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।