পাবনায় পদ্মা নদী থেকে বস্তাবন্দি কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৩ জুন ২০২৬ ০৫:৪৪ অপরাহ্ণ   |   ৫৬ বার পঠিত
পাবনায় পদ্মা নদী থেকে বস্তাবন্দি কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ

পাবনা প্রতিনিধি:

 

পাবনার পদ্মা নদী থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহটির হাত বাঁধা ছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। প্রাথমিকভাবে এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
 

বুধবার (৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের বলরামপুর এলাকার পদ্মা নদী থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের ওই কিশোরীর (১৪) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য, কিশোরীর গলায় একটি রূপার চেইন ছিল।
 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে পদ্মার চরে কাজ করতে যাওয়ার পথে কয়েকজন কৃষক নদীতীরে আটকে থাকা একটি নৌকার পাশে ভাসমান প্লাস্টিকের মুরগির বস্তা দেখতে পান। সন্দেহ হলে একজন কৃষক বস্তার মুখ কেটে ভেতরে একটি কিশোরীর মরদেহ দেখতে পান। মরদেহটির হাত বাঁধা ছিল এবং গলায় একটি বাজারের ব্যাগ পেঁচানো ছিল বলে জানা যায়। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
 

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এলাকায় একটি অজ্ঞাত প্রাইভেটকারে চারজন মধ্যবয়সী ব্যক্তিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। নদীতীরবর্তী এলাকা থেকে বলরামপুরের দিকে যাওয়ার সময় গাড়িটি বিকল হয়ে পড়লে স্থানীয়দের সহায়তায় সেটিকে মুজিব বাঁধ পর্যন্ত নেওয়া হয়।
 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তাদের ধারণা কিশোরীকে অন্য কোথাও হত্যা করে মরদেহ প্রাইভেটকারে করে এনে রাতে পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তারা ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
 

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখনো কিশোরীর পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে।”
 

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।