যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, একদিনে নিহত ৫১

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১১ মে ২০২৬ ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ   |   ৫২ বার পঠিত
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, একদিনে নিহত ৫১

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি তৃতীয় সপ্তাহে পৌঁছালেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ হয়নি। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় চালানো হামলায় অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে দুইজন চিকিৎসাকর্মীও রয়েছেন।

 

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করছে এবং চিকিৎসাসেবার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বিনত জবেইল জেলার কালাউইয়া ও তিবনিন এলাকায় হেলথ অথরিটির দুটি স্থাপনায় সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে।

 

গত ২ মার্চ নতুন সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত দুই হাজার ৮৪৬ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

 

জাতিসংঘের তথ্যমতে, ওই সময়ের পর থেকে লেবাননে ইসরায়েলের ১৩০টির বেশি হামলায় অন্তত ১০৩ জন চিকিৎসাকর্মী নিহত এবং আরও ২৩০ জন আহত হয়েছেন।

 

দক্ষিণ লেবাননের টাইর অঞ্চলে লেবানিজ সিভিল ডিফেন্সের প্রধান আলি সাফিউদ্দিন আল জাজিরাকে বলেন, প্রতিটি মুহূর্তেই তারা হুমকির মধ্যে রয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা প্রতিদিন ভাবি, বেঁচে ফিরব, নাকি মারা যাব। এখানে কাজ করতে এসে আমরা যেন জীবন আগেই উৎসর্গ করেছি।”

 

আল জাজিরার প্রতিবেদক ওবাইদা হিট্টো জানান, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধ পরিস্থিতিতে চিকিৎসাকর্মী ও জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন। তার ভাষায়, এখন মূল প্রশ্ন হলো, সহায়তার আহ্বানে সাড়া দেওয়ার মতো কতজন মানুষ টিকে থাকবেন।

 

গাজা ও লেবাননে দায়িত্ব পালন করা যুদ্ধ সার্জন ও মানবিক সহায়তাকর্মী ডা. তাহির মোহাম্মদ বলেন, দুই অঞ্চলেই ইসরায়েলি হামলার ধরনে মিল রয়েছে। তিনি জানান, গাজায় যেমন চিকিৎসাকর্মী ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা হামলার শিকার হয়েছেন, লেবাননেও একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে।

 

তার দাবি, সুযোগ পেলে ইসরায়েল পুরো দক্ষিণ লেবানন দখল করে নিত। মানবজীবনের প্রতি তাদের কোনো গুরুত্ব নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

উল্লেখ্য, ২ মার্চের পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১২ লাখের বেশি লেবানিজ নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যদিও ১৬ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তারপরও হামলা অব্যাহত রয়েছে।