পাহাড়ি ঢলে হালুয়াঘাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি হাজারো মানুষ

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৩ মে ২০২৬ ০৭:১২ অপরাহ্ণ   |   ৫১ বার পঠিত
পাহাড়ি ঢলে হালুয়াঘাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি হাজারো মানুষ

ভারত সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদীর বাঁধ ভেঙে ও উপচে পড়া পানিতে বিভিন্ন ইউনিয়নের হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে বোরো ধানসহ বিস্তীর্ণ ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।
 

বুধবার (১৩ মে) সকাল থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার গাজীরভিটা ইউনিয়ন।
 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেনংচরি ও বোরাঘাট নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বাঁধ উপচে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে কালিয়ানি কান্দা, বোয়ালমারা, ভুবনকুড়া ও গাজীরভিটাসহ অন্তত ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি পৌর শহরের কয়েকটি নিম্নাঞ্চলেও পানি প্রবেশ করেছে।
 

এলাকাবাসী জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টির কারণে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে বাঁধ উপচে ও ভাঙা অংশ দিয়ে ঢলের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেকেই বাড়ির উঠান ও ঘরে পানি দেখতে পান। পরে প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেন তারা।
 

বিশেষ করে কালিয়ানি কান্দা ও বোয়ালমারা এলাকায় পানির প্রবাহ বেশি হওয়ায় অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
 

স্থানীয় বাসিন্দা আ. রশিদ বলেন, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বোরাঘাট নদীসহ আশপাশের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। একপর্যায়ে বাঁধ উপচে ও ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে বাড়িঘর ও ফসলের জমি তলিয়ে গেছে।
 

আরেক বাসিন্দা রেজাউল আলম বলেন, কয়েক ঘণ্টার টানা ঢলে পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় অনেক পরিবার নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নদীর পানি আরও বাড়লে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
 

এদিকে হঠাৎ বন্যা পরিস্থিতিতে চরম উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকরাও। চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশা থাকলেও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে পাকা বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। দ্রুত ভাঙা বাঁধ মেরামত, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
 

হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ জানান, গাজীরভিটা ও ভুবনকুড়া এলাকার দুটি পয়েন্ট দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে এবং দুটি কাঁচা রাস্তা ভেঙে গেছে।
 

তিনি বলেন, “পাহাড়ি ঢলের পানির গতি ও প্রবাহ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
 

তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়নি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।