সুপারশপ সংস্কৃতি বদলে দিচ্ছে ঈদের কেনাকাটার ধারা

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৩ মে ২০২৬ ০৫:৫৯ অপরাহ্ণ   |   ৪৯ বার পঠিত
সুপারশপ সংস্কৃতি বদলে দিচ্ছে ঈদের কেনাকাটার ধারা

অনলাইন ডেস্ক

 

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের কেনাকাটার সংস্কৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। একসময় কোরবানির পশু জবাই থেকে শুরু করে মাংস সংরক্ষণ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করতে ক্রেতাদের ছুটতে হতো বিভিন্ন বাজার ও দোকানে। এখন সুপারশপ সংস্কৃতির বিস্তারে এক ছাদের নিচেই মিলছে প্রায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় পণ্য।
 

কোরবানির সময় ছুরি, কাটিং বোর্ড, গ্লাভস, ব্লিচিং পাউডার, ফ্লোর ক্লিনার, অ্যান্টিসেপটিকসহ বিভিন্ন পরিচ্ছন্নতাসামগ্রী প্রয়োজন হয়। এছাড়া মাংস সংরক্ষণের জন্য গামলা, বালতি, জিপ ব্যাগ, ফয়েল বক্স এবং ফ্রিজিং উপকরণেরও চাহিদা বাড়ে। অনেক পরিবার বারবিকিউ আয়োজন করায় প্রয়োজন পড়ে বিভিন্ন এক্সেসরিজেরও। আগে এসব সংগ্রহ করতে আলাদা আলাদা বাজারে যেতে হলেও বর্তমানে সুপারশপগুলোতেই পাওয়া যাচ্ছে সব ধরনের পণ্য।
 

ঈদকে ঘিরে গৃহিণীদের গেরস্থালি প্রস্তুতিও থাকে ব্যাপক। মাংস রান্নার জন্য বিভিন্ন ধরনের মসলা, তেল, ঘি, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও টক দইয়ের পাশাপাশি পোলাও, খিচুড়ি ও অন্যান্য খাবারের উপকরণ কেনা হয়। ঈদের মেন্যুতে সেমাই, জর্দা ও পায়েসের মতো ডেজার্ট থাকায় চিনি, দুধ, কিশমিশ, পেস্তা বাদাম ও ফুড কালারের চাহিদাও বাড়ে। সালাদ আইটেম ও কোমল পানীয়সহ এসব পণ্যের বিশাল সমাহার সাজিয়ে রেখেছে সুপারশপগুলো।
 

ক্রেতাদের মতে, শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ, নির্ধারিত মূল্য এবং একসঙ্গে সব পণ্য কেনার সুবিধা সুপারশপকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। বিশেষ করে ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন সুপারশপে দেওয়া ডিসকাউন্ট ও মেগা অফার ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে।
 

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক দশক আগেও মাছ-মাংস, সবজি, মসলা কিংবা গৃহস্থালি পণ্য কেনার জন্য স্থানীয় বাজারই ছিল প্রধান ভরসা। তবে নগরজীবনের ব্যস্ততা, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং নিরাপদ খাদ্যের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে মানুষ এখন ঝক্কি-ঝামেলাহীন কেনাকাটার দিকে ঝুঁকছে। এ ছাড়া পণ্যের ওপর থেকে ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করায় সুপারশপমুখী ক্রেতার সংখ্যা আরও বেড়েছে।
 

বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, লয়্যালটি প্রোগ্রাম এবং প্রমোশনাল অফারের কারণে আধুনিক রিটেইল চেইনগুলোর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। ফলে মধ্যবিত্ত পরিবারের কেনাকাটার ধরনেও দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। এক ছাদের নিচে প্রয়োজনীয় সব পণ্য পাওয়ার সুবিধাকে অনেকেই আধুনিক নগরজীবনের আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন।