আবদুল হাকিম রানা, দক্ষিণ চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গোবিন্দারখীল এলাকায় একটি মাছের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৪ লাখ টাকার মাছের পোনা নিধনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন শওকত আকবর মুন্না নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা।
ভুক্তভোগীর দাবি, গত ৫ জুলাই (রোববার) সন্ধ্যা ৭টার পর কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে। পরদিন সকালে পুকুরে গিয়ে তিনি বিপুল পরিমাণ মাছের পোনা মৃত অবস্থায় ভাসতে দেখেন।
শওকত আকবর মুন্না জানান, চাকরির পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাছের পোনা চাষের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর মোট ১৮টি পুকুর রয়েছে। আনোয়ারার একটি বড় দিঘিতে মাছের পোনা সরবরাহের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন পুকুরের বিভিন্ন প্রজাতির পোনা একত্র করে দক্ষিণ গোবিন্দারখীলের সানাউল্লাহ বাপের বাড়ির বড় পুকুরে সংরক্ষণ করেছিলেন। সেখানে প্রায় ৪ লাখ টাকার মাছের পোনা মজুদ ছিল।
তিনি বলেন, রোববার সন্ধ্যায় কয়েকটি মাছ পানির ওপর ভেসে উঠতে দেখে প্রথমে অক্সিজেনের ঘাটতির আশঙ্কা করেন। সঙ্গে সঙ্গে পুকুরে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু সোমবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, পুরো পুকুরজুড়ে মাছের পোনা মৃত অবস্থায় ভাসছে। এতে তাঁর ধারণা, কেউ পরিকল্পিতভাবে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেছে।
আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “বছরের পর বছর পরিশ্রম করে গড়ে তোলা আমার স্বপ্ন এক রাতেই শেষ হয়ে গেল। এত বড় ক্ষতি কীভাবে সামাল দেব বুঝতে পারছি না। কারা বা কেন এমন ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জানি না। তবে এটি প্রতিহিংসামূলক কাজ বলেই আমার ধারণা।”
তিনি আরও বলেন, “এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা আমার পক্ষে অত্যন্ত কঠিন। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
স্থানীয়দের মতে, পরিকল্পিতভাবে বিষ প্রয়োগ না করলে একসঙ্গে এত বিপুল পরিমাণ মাছের পোনা মারা যাওয়ার ঘটনা স্বাভাবিক নয়। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পটিয়া উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”