শনিবার রাত প্রায় ১০টার দিকে পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জিসান ওই এলাকার ইউনুছ ওরফে ইনু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আল ফালাহ’-এর সংগঠক এবং একটি মসজিদের ইমাম কাওছার আহমেদের নেতৃত্বে কয়েকজন জিসানকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে একদল ব্যক্তি জিসানকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাঁর হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাঁকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাঁকে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইমাম কাওছার আহমেদ বলেন, জিসানের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, মাদক বিক্রি এবং ছিনতাইয়ের অভিযোগ ছিল। শনিবার নতুন করে ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠার পর ক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে মারধর করে।
এদিকে, ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কাওছার আহমেদকে জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দিতে দেখা গেছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
তিনি আরও বলেন, কেউ অপরাধে জড়িত থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।