গাঁজা সেবনকারীকে ছাড়াতে থানায় গিয়ে মাতলামির অভিযোগ, শ্রমিক দল নেতা বহিষ্কার

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৫ জুলাই ২০২৬ ০৭:০৩ অপরাহ্ণ   |   ৫৫ বার পঠিত
গাঁজা সেবনকারীকে ছাড়াতে থানায় গিয়ে মাতলামির অভিযোগ, শ্রমিক দল নেতা বহিষ্কার

খুলনা প্রতিনিধি:


খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় গাঁজা সেবনের অভিযোগে আটক দুই যুবককে ছাড়াতে গিয়ে মাতলামি ও পুলিশের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে শ্রমিক দলের এক নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। পরে আদালত তাকে ও অপর তিনজনকে জরিমানা এবং প্রবেশনের আদেশ দেন। একই ঘটনায় ওই নেতাকে দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

পুলিশ জানায়, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে সোনাডাঙ্গা থানায় এ ঘটনা ঘটে। আটক ব্যক্তি হলেন খুলনা মহানগরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা শেখ দুলাল। তার সহযোগী শরিফুলকেও আটক করা হয়।
 

রোববার দুপুরে মোস্তফা শেখ দুলাল, শরিফুল এবং গাঁজা সেবনের অভিযোগে আটক পারভেজ শেখ ও আবদুল্লাহকে ফৌজদারি কার্যবিধির সংক্ষিপ্ত বিচার (সামারি ট্রায়াল) ধারায় আদালতে হাজির করা হয়। খুলনা মহানগর হাকিম মো. আসাদুজ্জামান চারজনকে এক হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। পাশাপাশি পারভেজ শেখ ও আবদুল্লাহকে তিন মাস এবং মোস্তফা শেখ দুলাল ও শরিফুলকে ছয় মাস পরিবারের জিম্মায় প্রবেশন (সংশোধনের সুযোগ) দেওয়া হয়।
 

এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মোস্তফা শেখ দুলালকে শ্রমিক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, খুলনা মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মজিবর রহমান ও সদস্যসচিব শফিকুল ইসলাম শফি তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।
 

খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (সোনাডাঙ্গা জোন) মো. হুমায়ুন কবির জানান, শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর দারুস সালাম মহল্লা থেকে গাঁজা সেবনের সময় দুই যুবককে আটক করা হয়। পরে তাদের ছাড়াতে থানায় আসেন মোস্তফা শেখ দুলাল। প্রায় এক ঘণ্টা থানায় অবস্থানকালে তিনি মাতলামি করেন এবং পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে তার মুখ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পাওয়া গেলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার পাকস্থলী পরিষ্কার করার পর তাকে হেফাজতে রাখা হয় এবং পরদিন আদালতে পাঠানো হয়।
 

সোনাডাঙ্গা থানার অপারেশন কর্মকর্তা ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাদিম মাহমুদ বলেন, আদালতে অভিযোগ উপস্থাপনের পর বিচারক চারজনের বিরুদ্ধে জরিমানা ও প্রবেশনের আদেশ দেন। পাশাপাশি প্রবেশন চলাকালে পুনরায় একই ধরনের অপরাধে জড়ালে সংশ্লিষ্টদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত তিন মাসের কারাদণ্ড কার্যকরের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।