স্পোর্টস ডেস্ক:
কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলের কষ্টার্জিত জয় নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। তবে জয় পেলেও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের পারফরম্যান্স নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে মাঝমাঠের নিষ্প্রভ ফুটবল ও কোচ লিওনেল স্কালোনির কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে।
ম্যাচের ফলাফল আর্জেন্টিনার পক্ষে গেলেও মাঠের খেলায় ফুটে উঠেছে দলের একাধিক দুর্বলতা। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের জায়গা হয়ে উঠেছে মাঝমাঠ, যেখানে গতি, সৃজনশীলতা ও নিয়ন্ত্রণ—তিনটিরই ঘাটতি স্পষ্ট। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, নকআউট পর্বে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই দুর্বলতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার দীর্ঘ ও ব্যস্ত ক্লাব মৌসুম শেষে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন। সেই শারীরিক ধকল তাদের পারফরম্যান্সে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। আগের মতো দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না, মাঝমাঠে প্রভাবও কমে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সমস্যা শুধু খেলোয়াড়দের ক্লান্তিতে সীমাবদ্ধ নয়; কৌশলগত সিদ্ধান্তও এর জন্য দায়ী। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে এনজোকে ডিপ-লাইং মিডফিল্ডার এবং ম্যাক অ্যালিস্টারকে কিছুটা এগিয়ে খেলিয়ে দারুণ সাফল্য পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। এবার সেই পরীক্ষিত সমীকরণ থেকে সরে এসে ম্যাক অ্যালিস্টারকে আরও নিচে খেলানো হচ্ছে, যেখানে তিনি স্বাভাবিক ছন্দে থাকতে পারছেন না।
লিভারপুলেও মৌসুমের শেষ দিকে একই ভূমিকায় ম্যাক অ্যালিস্টার প্রত্যাশিত সাফল্য পাননি। ফলে জাতীয় দলেও একই কৌশল প্রয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মাঝমাঠের এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে পুরো দলের খেলায়। বলের দখল থাকলেও আক্রমণাত্মক পাসের বদলে ব্যাক-পাস ও স্কয়ার-পাসের সংখ্যাই বেশি দেখা যাচ্ছে। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার মতো সৃজনশীলতা, দূরপাল্লার শট কিংবা মাঝমাঠ থেকে বক্সে ঢুকে গোলের সুযোগ তৈরির প্রবণতাও কমে গেছে।
এর ফলে আক্রমণভাগে বাড়তি চাপ পড়ছে অধিনায়ক লিওনেল মেসির ওপর। তিনি এখনও ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিচ্ছেন, তবে কেবল তার ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর নির্ভর করে বড় টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক সাফল্য পাওয়া কঠিন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে থিয়াগো আলমাদাও এখন পর্যন্ত প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। প্রস্তুতি ম্যাচ থেকে শুরু করে কেপ ভার্দের বিপক্ষেও তিনি প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে শুরুর একাদশে তার জায়গা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দিয়েছেন অনেকে।
এ পরিস্থিতিতে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে 'নম্বর ৫' পজিশনে খেলিয়ে ম্যাক অ্যালিস্টারকে আরও আক্রমণাত্মক ভূমিকায় ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। এতে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠে ভারসাম্য ও গতিশীলতা ফিরে আসতে পারে বলে তাদের ধারণা।
নকআউট পর্বের কঠিন লড়াইয়ের আগে স্কালোনি কৌশলে পরিবর্তন আনেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। কারণ মাঝমাঠের বর্তমান সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠতে পারে।