মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সুখবর

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৪ মে ২০২৬ ১১:০১ পূর্বাহ্ণ   |   ১৮ বার পঠিত
মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সুখবর

আসন্ন জাতীয় বাজেটে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য কিছু বড় সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আলোচনা চলছে। পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য মোবাইল সেবায় আরোপিত এক শতাংশ সারচার্জ তুলে নেওয়া এবং সিমের ওপর বর্তমান ৩০০ টাকার কর কমানোর পরিকল্পনা করছে সরকার।

 

টেলিকম খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন পর মোবাইল গ্রাহকরা করের চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি পাবেন। একই সঙ্গে মোবাইল কলরেট ও ইন্টারনেট ব্যয় কমার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

 

পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থ জোগাতে ২০১৬ সালের মার্চে মোবাইল সেবার ওপর এক শতাংশ সারচার্জ আরোপ করা হয়। পরে ২০২২ সালে সেতুটি চালু হলেও এখনো মোবাইল ব্যবহারকারীদের সেই অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ১৮ কোটির বেশি মোবাইল সংযোগ রয়েছে এবং প্রতি ১০০ টাকা রিচার্জে এক টাকা সারচার্জ কাটা হয়।

 

এ ছাড়া মোবাইল সেবায় বর্তমানে ২৩ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং কার্যকরভাবে প্রায় ১৮ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। ফলে ১০০ টাকা রিচার্জে ব্যবহারকারীরা প্রকৃত সেবা পান প্রায় ৫৮ টাকার। একই সঙ্গে নতুন সিম কেনা বা রিপ্লেসমেন্টের ক্ষেত্রেও ৩০০ টাকা কর গুনতে হয়।

 

মোবাইল অপারেটরদের দাবি, উচ্চ কর কাঠামোর কারণে কলরেট ও ইন্টারনেট খরচ কমানো সম্ভব হচ্ছে না। খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে মোবাইল অপারেটররা সরকারকে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছে। এর মধ্যে শুধু সারচার্জ থেকেই এসেছে প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

 

বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান সিম কর কমানোর দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে অপারেটরদের অভিযোগ, চলতি বছর তরঙ্গ নবায়নেও তাদের বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করতে হবে। বেসরকারি তিন অপারেটরের জন্য এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা, যার ওপর আবার ভ্যাটও প্রযোজ্য।

 

এ বিষয়ে এক অপারেটরের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই তরঙ্গের ওপর ভ্যাট নেওয়া হয় না। করের চাপ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

 

অন্যদিকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতারাও কর কমানোর দাবি তুলেছেন। বর্তমানে প্রায় দেড় কোটি গ্রাহক ব্রডব্যান্ড সেবায় ৫ শতাংশ ভ্যাট দিচ্ছেন। পাশাপাশি রাউটার ও নেটওয়ার্কিং যন্ত্রপাতি আমদানিতে কর কমানোরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

আইএসপিএবি সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, গ্রাহক পর্যায়ে আরোপিত ৫ শতাংশ ভ্যাট শূন্যে নামিয়ে আনা হলে ইন্টারনেট সেবা আরও সহজলভ্য হবে।


সরকারও টেলিযোগাযোগ খাতে কর কাঠামো পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, বিভিন্ন খাতে করের হারে বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে, যা সমন্বয় করা প্রয়োজন।বর্তমানে দেশে চারটি মোবাইল অপারেটর সেবা দিচ্ছে। পাশাপাশি আই হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা পরিচালনা করছে।